প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক তরুণীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়ে বিয়ে করেন মাগুরার সদর উপজেলার সাজিয়ারা শলুয়াপাড়া গ্রামের যুবক মেহেদী হাসান তপু। তবে বিয়ের আট মাস পর স্বামীর বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই তরুণী। স্বামীর পরিবারের অসহযোগিতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে তপু পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বজরুক ছোকরা গ্রামের শ্রী ভবেশ চন্দ্রের মেয়ে ।
ভুক্তভোগী তরুণীর নাম মরিয়ম (অঞ্জনা রায় পূর্বের নাম প্রকাশ করা হলো না)। তিনি জানান, প্রায় আট মাস আগে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় মেহেদী হাসান তপুর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ ইসলাম তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মরিয়ম নাম ধারণ করেন। ৬ ই নভেম্বর ২০২৫ সালে তারা দুজন বিয়ে করেন। বিয়ের পর ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় এলাকায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।
মরিয়মের দাবি, ঈদুল আজহার ছুটিতে তপু গ্রামের বাড়িতে আসেন। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে ফিরে না গিয়ে যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। বারবার ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।
এ অবস্থায় গতকাল বুধবার ১০ জুন স্বামীর খোঁজে মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা শলুয়াপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে আসেন মরিয়ম। তিনি অভিযোগ করেন, তার আগমনের খবর পেয়ে মেহেদী হাসান তপু বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে তপুর পরিবারের সদস্যরাও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বিষয়টি জানার পর মরিয়মকে সহায়তা করেন। বর্তমানে তিনি গ্রামবাসীর সহযোগিতায় স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান তপুর চাচা আঃ কুদ্দুস বলেন, আজ সকালে একটি মেয়ে তপুর বাড়িতে আসলে পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি জানতে পারলাম যে তবু ৮ মাস আগে এই মেয়েটিকে বিয়ে করেছে যেহেতু বিয়ে করেছে আমরা সবাই থেকে মেয়েটিকে তার বাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তারিকুল বলেন, যেহেতু একটা মেয়েকে হিন্দু থেকে মুসলিম বানিয়ে বিয়ে করেছে সেহেতু এ মেয়েকে নিয়ে ঘর-সংসার করবে এটাই স্বাভাবিক আমরা এ বিষয়টি থেকে মেয়েটিকে তার বাড়িতে রেখে এসেছি।
