News cover
3 hours ago

নিখোঁজের ২ দিন পর ২য় শ্রেণীর ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা

generalpublished20 views

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
"আমার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই" — এই বলে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছিলেন ফালু চন্দ্র মালো। তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে না পারার নির্মম বলি হতে হলো তার আট বছর বয়সী ছোট্ট শিশু সেঁজুতি মালোকে। নিভে গেলো দ্বিতীয় শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীর হাসিমাখা মুখ।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামের ওই শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সেঁজুতি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে স্থানীয় সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই শিশুটির বাবা ফালু চন্দ্র মালো সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরিবারের একাধিক সদস্যের দাবি, রোববার রাতে তাদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল আসে। ফোনে সেঁজুতিকে জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু সেই টাকা জোগাড় করার আগেই সোমবার সকালে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেঁজুতির মরদেহ উদ্ধার করে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, নিখোঁজের দুই দিন পর উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Community Trust Score: 100%
Uzzwal Dhali
+1
0 comments
0 replies
Guest avatar
Join the discussionLogin or register to post your comment.