লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পুলিশ-বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের সাথে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে প্রশাসন। সংঘর্ষে পুলিশ সুপার ও ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, ভাঙচুর করা হয়েছে প্রশাসনের ৮টি গাড়ি। এই ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে ফলিমারী গ্রাম।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো —
নৃশংস হত্যাকাণ্ড: গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ৭ বছরের শিশু নন্দিনী। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবেশী মাদকসেবী বিধান চন্দ্র রায় (২২) শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ গুম করেছিল।
মব সৃষ্টি ও অবরুদ্ধ প্রশাসন: মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধানের বাড়ি ভাঙচুর করে তাকে আটক করে। পুলিশ বিধানকে হেফাজতে নিলে উত্তেজিত জনতা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তারা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
রণক্ষেত্র ও হামলা: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং দফায় দফায় হামলা চালায়।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি: শেষ পর্যন্ত সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্ত বিধান ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসন। এ সময় জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশ সুপার ও আদিতমারী থানার ওসিসহ ২০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ ৮টি যানবাহন।
বর্তমান পরিস্থিতি: এই ঘটনার পর আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশি অভিযানের ভয়ে স্থানীয় পুরুষেরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
