সাময়িক মোহের বশে পাঁচ বছরের নিষ্পাপ সন্তান ও স্বামীকে পেছনে ফেলে নেত্রকোনা থেকে পরকীয়া প্রেমিকের টানে পঞ্চগড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন এক হিন্দু নারী। তবে এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের যে সময়োচিত, বিবেকবান ও মানবিক দায়িত্বশীলতা দেখা গেছে, তা সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয়দের অভিভাবকতুল্য প্রজ্ঞা ও সুবুদ্ধির কারণে একটি ছোট্ট শিশু যেমন তার মাতৃহারা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, তেমনই একটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হওয়া পরিবার ফিরে পেয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন।
ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার বাসিন্দা ওই নারী তাঁর পাঁচ বছরের ফুটফুটে সন্তানকে রেখে পঞ্চগড়ে অবস্থানরত তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে চলে আসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রেমিকের এলাকার সচেতন অধিবাসীরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা নীরব দর্শক না থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেন। তারা পরকীয়া প্রেমিক ও ওই নারীকে অনৈতিক সুবিধা বা সুযোগ না দিয়ে সশরীরে ও দূরভাষে ওই নারীর স্বামীর সাথে যোগাযোগ করেন।
পরবর্তীতে গৃহবধূর স্বামীকে ডেকে এনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এক শালীন ও দায়িত্বশীল আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে ওই নারীকে তাঁর দায়িত্ব ও আবেগের সাময়িক ভুলের গভীরতা বুঝিয়ে বলেন সবাই। সন্তান ও সংসারের প্রতি একজন মায়ের যে অলঙ্ঘনীয় দায়িত্ব রয়েছে—তা অনুধাবন করতে পেরে ওই নারী নিজের ভুল স্বীকার করেন। এরপর সুন্দর সমঝোতার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিজ গৃহে ফিরিয়ে নেন।
ঘটনাটির খবর প্রকাশ্যে আসার পর সর্বস্তরে পঞ্চগড়ের স্থানীয় অধিবাসীদের এই মহৎ ও মানবিক পদক্ষেপের ব্যাপক প্রশংসা করা হচ্ছে। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত ভালোবাসা বা আবেগ মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু একটি অবুঝ শিশুকে পৃথিবীতে আনার পর সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও তাঁর প্রতি দায়িত্ব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ থাকে না। সাময়িক মোহের বশে সন্তানকে ফেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কখনোই কোনো আদর্শ সমাজ বা পরিবারের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
বিবেকের তাড়নায় পঞ্চগড়ের ওই গ্রামবাসী যেভাবে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সুবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে সমাজে এখনো মানবিকতা ও সুস্থ সমাজচেতনা বেঁচে আছে। ভেঙে যাওয়া পরিবারটি রক্ষা পাওয়ায় এবং অবুঝ শিশুটি তার মায়ের কোলে ফিরে পাওয়ায় স্থানটি এখন প্রশান্তি ও শ্রদ্ধায় ভাসছে।
