একটি পেট্রোল পাম্পের চার নম্বর আইল্যান্ডে একটি কুকুর দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু যখন অবশেষে তার পরিবারের গাড়িটি ফিরে এলো, যা ঘটল তা সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য।
ছুটির পথে একটি পরিবার পেট্রোল নিতে পাম্পে থেমেছিল। সেইসময় তাদের পোষা কুকুরটি একটু হাঁটার জন্য গাড়ি থেকে নেমেছিল। কুকুরটিকে না নিয়েই সেই গাড়িটি চলে গেল। বলা যায় একপ্রকার ফেলে রেখেই। এটা কি নিছক দুর্ঘটনা? পাম্পের এক কর্মচারী প্রথমে তাই ভেবেছিলেন। তিনি প্রতিদিন কুকুরটিকে খাবার দিতেন। কুকুরটি ও কোথাও যেত না। চার নম্বর আইল্যান্ডেই বসে থাকত, ঠিক সেই জায়গায় যেখানে শেষবার তার পরিবারের গাড়িটিকে দেখেছিল। প্রতিটি ধূসর রঙের গাড়ি ঢুকলেই সে কান খাড়া করে তাকাত।
দুই সপ্তাহ পর, অবশেষে সেই গাড়িটি ফিরে এলো। হ্যাঁ, সেই একই গাড়ি, একই পরিবার। ভ্রমণ শেষে তারা আবার সেই পথেই ফিরছিল। কুকুরটি গাড়িটিকে দূর থেকেই চিনে ফেলল। আনন্দে দৌড়ে গেল, পিছনের দরজার কাছে লাফাতে লাগল। তার লেজ যেন আনন্দে থামতেই চাইছিল না। সে ভেবেছিল — ওরা ফিরে এসেছে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
কিন্তু না, গাড়ির জানালাও খোলা হলো না। তারা পেট্রোল নিল, টাকা দিল, তারপর আবার চলে গেল। আর কুকুরটি মরিয়া হয়ে তাদের পেছনে দৌড়াতে লাগল। একবার ভুল হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়বার? সেটার নাম অবহেলা নয়, নিষ্ঠুরতা।
সবকিছু নিজের চোখে দেখা সেই কর্মচারী সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলেন — “এখন থেকে ও আর কারও জন্য অপেক্ষা করবে না।” এবং আজ কুকুরটি সেই মানুষটির সঙ্গেই থাকে — নিরাপদে, ভালোবাসায়, আপনজনের মতো।
এখন আর কৃকুরটি কোনো ধূসর গাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে না। ভালোবাসা কখনও রক্তের সম্পর্কে নয়, হৃদয়ের সম্পর্কে তৈরি হয়। আর যে মানুষ প্রাণীর ভালোবাসার মূল্য বোঝে, সে-ই প্রকৃত মানুষ।
