বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে দলে দলে ভক্ত-অনুরাগীরা সেবাশ্রমে সমবেত হন। তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় সংগীত, প্রার্থনা ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্রবধূ ফারনাজ আলম কাদের চৌধুরী। তিনি রথযাত্রা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই বাংলাদেশের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদের সভাপতি দীলিপ কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং প্রণব চৌধুরী মিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাউজান প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রদীপ শীল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান, রাউজান পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেজাউর রহিম আজম এবং সনাতনী সম্প্রদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক লিটন মহাজন লিটু।
এ সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজান সাহিল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাসেল খান, রাউজান পৌরসভা যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিপু কান্তি দে, সহসভাপতি অশোক পালিত, প্রবীণ শিক্ষক রাখাল চন্দ্র দে, পরিচালনা পরিষদের সদস্য চন্দন শীল, রাউজান পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে সজীব, ধীলন মুহুরী, দিবাকর বোস বাবু, রনজিত শীল, সমীর শীল, চন্দ্রশেখর দে, বিজন চৌধুরী, বাসু পালিত, ভানু শীল, ইমন সেন, কাঞ্চন দে, শংকর দে ও রাজিব দে-সহ সেবাশ্রম পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রথমে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে আরোহন করানো হয়। পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের জলিলনগর বাসস্টেশন এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য রথ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাপুকুরপাড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পালিতপাড়া শিবমন্দিরে অবস্থিত ‘মাসির বাড়ি’তে পৌঁছে। সেখানে হাজারো ভক্ত একযোগে রথ টানার মধ্য দিয়ে রথযাত্রার প্রধান ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
শোভাযাত্রার সময় প্রবল বর্ষণ হলেও ভক্তদের ধর্মীয় উৎসাহ ও ভক্তিতে কোনো ভাটা পড়েনি। মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজেই তারা রথের দড়ি টেনে শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
আয়োজকদের ভাষ্য, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনেরও প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক ভক্তের উপস্থিতিতে উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
