উজবেকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্র (এমবিবিএস) পড়তে যাওয়া ভারতের কেরালা রাজ্যের এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাওয়ারিয়া বসন্ত। অভিযোগ রয়েছে, এক সহপাঠী ভারতীয় শিক্ষার্থী তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল এবং সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কেরালা থেকে উজবেকিস্তানে পড়তে যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সাওয়ারিয়া বসন্তকে তাঁরই এক সহপাঠী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য অনবরত মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করে আসছিল। ঘটনার দিন ওই সহপাঠী অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই সাওয়ারিয়ার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে আঘাতের তীব্রতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাওয়ারিয়ার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে এই বর্বরোচিত হামলার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পূর্বের বিভিন্ন সময়েও সাওয়ারিয়াকে ধর্মান্তরিত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিল এবং কথা না শুনলে মাঝেমধ্যেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করত।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় উজবেকিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ভারতীয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গভীর তদন্ত শুরু করেছে। উজবেক সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের খবর ভারতে পৌঁছানোর পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে উজবেকিস্তান কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে উজবেক পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
