
সিলেটে এই প্রথম: শ্রীমঙ্গলে ১৫ ফুট উচ্চতার ‘কিউটেস্ট’ সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে উন্মাদনা
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
সিলেটের পূজা অঙ্গনে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল। বিদ্যাদেবী সরস্বতীর প্রথাগত রূপের বাইরে গিয়ে, প্রথমবারের মতো সিলেটে তৈরি করা হয়েছে ১৫ ফুট উচ্চতার বিশাল আকৃতির ‘কিউটেস্ট’ সরস্বতী প্রতিমা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর উত্তরসুর (কাশিপুর) এলাকায় ‘সূর্য তরুণ যুব সংঘ’-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
সংগঠনটির ২০ বছর পূর্তি বা দুই দশক উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এবার পূজায় বিশেষ চমক হিসেবে এই প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ‘কিউটেস্ট’ মূর্তির আদলে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিশাল প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই এবারের সরস্বতী পূজার সবচেয়ে আলোচিত আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
প্রতিমার বিশেষত্ব ও নান্দনিকতা
১৫ ফুট উচ্চতার এই প্রতিমায় জ্ঞানদেবী সরস্বতীর চিরাচরিত গাম্ভীর্যের বদলে তাঁর শৈশব রূপ বা ‘চাইল্ড লাইক’ অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমার প্রতিটি অংশে রয়েছে মাধুর্য, মায়াবী চোখ এবং নিষ্পাপ হাসির ছোঁয়া। বিশাল শ্বেতহংসে আসীন দেবীর এই কোমল ও নান্দনিক রূপ দর্শনার্থীদের বিমোহিত করবে বলে আশা করছেন কারিগর ও আয়োজকরা।
আয়োজকদের বক্তব্য
সূর্য তরুণ যুব সংঘের আয়োজকরা জানান, “আমাদের সংগঠনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা ভক্তদের নতুন কিছু উপহার দিতে চেয়েছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই সিলেটে প্রথমবারের মতো এত বিশাল উচ্চতার কিউটেস্ট সরস্বতী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি কেবল একটি প্রতিমা নয়, বরং একটি শিল্পকর্ম, যা শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে।”
উৎসবমুখর পরিবেশ
উত্তর উত্তরসুর, কাশিপুর এলাকায় মণ্ডপ সজ্জা ও প্রতিমা উন্মোচনকে কেন্দ্র করে এখন সাজ সাজ রব। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এবারের পূজায় এই প্রতিমাটিই হবে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান ‘সেলফি জোন’ ও দর্শনীয় স্থান।
একনজরে আয়োজন:
উদ্যোক্তা: সূর্য তরুণ যুব সংঘ (২০ বছর পূর্তি বিশেষ আয়োজন)।
আকর্ষণ: ১৫ ফুট উচ্চতার ব্যতিক্রমী ‘কিউটেস্ট’ সরস্বতী প্রতিমা।
স্থান: উত্তর উত্তরসুর, কাশিপুর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে সূর্য তরুণ যুব সংঘের এই নান্দনিক আয়োজন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।