
ধর্মান্তর রোধে ব্যর্থতা: বাইরের আঘাত নয়, হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা এবং ধর্মান্তর নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। সমাজ বিশ্লেষক ও ধর্মীয় চিন্তাবিদদের একাংশ মনে করছেন, হিন্দুধর্মের অস্তিত্ব সংকটের মূল কারণ বাইরের কোনো আঘাত নয়, বরং সমাজের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা।
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ এবং বুদ্ধিজীবী মহলের আলোচনায় এই আত্মসমালোচনার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, অন্য ধর্মগুলো যেখানে নিজেদের আদর্শ প্রচারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অনেকটাই পিছিয়ে।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইসলাম ধর্মের প্রসারে যেমন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং খ্রিষ্টান ধর্মের সেবায় মিশনারিগুলোর শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে, হিন্দু সমাজে তার সমতুল্য কোনো কাঠামো নেই। এমনকি বৌদ্ধ ধর্মেও ‘সংঘ’ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিপরীতে, হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ‘গুরুকুল’ বা শক্তিশালী ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবেই ধর্ম এখন অনেকের কাছে কেবল আবেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পরিকল্পনা ও ঐক্যের সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, একটি সমাজকে টিকে থাকতে হলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম জরুরি। কিন্তু হিন্দু সমাজে এর প্রকট অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ছাড়াই বছরের পর বছর কেবল ধর্মান্তর নিয়ে আক্ষেপ করা হচ্ছে। যেখানে সংগঠন নেই এবং পরিকল্পনা নেই, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা কার্যত কোনো ফলাফল বয়ে আনে না।
আত্মসমালোচনার দায়
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মান্তরের জন্য ‘অন্যদের’ দায়ী করার যে প্রবণতা, তাকে আত্মপ্রবঞ্চনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। শিক্ষা, সংগঠন এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত না করলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এখনই যদি অভিযোগের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঐক্য নিশ্চিত না করা যায়, তবে এই ব্যর্থতার দায় পুরো সমাজকেই নিতে হবে।