
“গীতা ৬/১৫ ভগবান বলেছেন :যারা বেশি খান ও অল্প খান তারা কখনো সাধনা করতে পারেনা।
দুরন্ত কুমার সাহা,ধর্মতত্ব ডেস্ক :
গীতার ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১৫ নম্বর শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ যোগের পরম লক্ষ্য ও যোগীর অন্তর্দশা গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন— যে যোগী ধ্যানযোগে অবিচল মন নিয়ে প্রভুর প্রতি নিবিষ্ট থাকে, সে ক্রমশ দেহ ও মনকে অতিক্রম করে পরম সত্যের অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। যোগের মূল শক্তি হলো একাগ্রতা ও শুদ্ধচিত্ত। মন যখন বহির্বিশ্বের আকর্ষণ থেকে সরে গিয়ে অন্তরের আলোয় স্থির হয়, তখনই আত্মার আসল স্বরূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
এই শ্লোকে বলা হয়েছে— এমন যোগী অপরিমেয় শান্তি লাভ করে, যা কোনো ভৌতিক সুখের সাথে তুলনীয় নয়। কারণ এই শান্তি আসে আত্মসাক্ষাৎকার থেকে, যেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কোনো দুঃখ, নেই কোনো দ্বন্দ্ব। যোগীর চিত্ত তখন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়ে যায়, যেমন ময়লা মুক্ত স্থির জলের ওপর পরিষ্কার আকাশের প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
শ্রীকৃষ্ণ আরও ইঙ্গিত দেন— যোগ শুধুই শারীরিক ক্রিয়া নয়; বরং এটি হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, মননশীলতা এবং দিভ্যসত্তার সাথে একাত্ম হওয়ার পথ। নিয়মিত সাধনা, সংযম, শুচিতা, নৈতিকতা এবং ঈশ্বরনিষ্ঠা— এগুলো যোগীর জীবনকে ক্রমাগত উচ্চস্তরে উন্নীত করে। যে যোগী এইভাবে একাগ্রচিত্তে ধ্যান করে, তার মাঝে জন্মায় অকৃত্রিম আনন্দ, পরম শান্তি, এবং দিভ্য চেতনার স্পর্শ।
অতএব, গীতা ৬/১৫ আমাদের শেখায়— সত্যিকার শান্তি বাহিরে নয়; তা জন্মায় অন্তরে। মন যখন স্থির হয়, আত্মা তখন ঈশ্বরের সাথে মিলিত হয়ে যায়, এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পায় অটল, চিরন্তন শান্তি।