
অস্ত্র বা প্রলোভন নয়, আদর্শের টানেই ইতালিতে বাড়ছে সনাতন ধর্মের প্রসার: দাবি হিন্দু ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপের বুকে নীরবে ঘটে চলেছে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ইতালিতে বর্তমানে প্র্যাকটিসিং বা ধর্মাচারী হিন্দুর সংখ্যা প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপে রাশিয়ার পরেই এখন সর্বাধিক হিন্দুর বসবাস ইতালিতে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ৮০ শতাংশই জন্মসূত্রে স্থানীয় ইতালিয়ান নাগরিক। সম্প্রতি ইতালিয়ান হিন্দু ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কো ডি মারিয়া জয়েন্দ্রনাথের এক বক্তব্যে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ইতালির মতো একটি ক্যাথলিক প্রধান দেশে কীভাবে সনাতন ধর্মের এই প্রসার ঘটল, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এর পেছনে কি কোনো প্রলোভন বা জোরজবরদস্তি কাজ করেছে?
প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কো ডি মারিয়া জয়েন্দ্রনাথের বক্তব্যের সূত্র ধরে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কোনো 'চালের বস্তা' বা আর্থিক প্রলোভনের গল্প নেই। নেই কোনো লোভ, চাপ সৃষ্টি বা ভয়ের পরিবেশ। এমনকি ইতিহাসের পাতায় কুখ্যাত "রালিভ, গালিভ, চালিভ" (ধর্ম গ্রহণ করো, নয়তো মরো বা দেশ ছাড়ো)—এর মতো কোনো হুমকিও এখানে দেওয়া হয়নি।
তবে কীভাবে সম্ভব হলো এই 'ধর্মবিজয়'?
এর উত্তরে উঠে এসেছে ভারতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের স্বকীয়তা। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় সভ্যতা চিরকাল 'রিলিজিয়ন' বা নিছক উপাসনা পদ্ধতির চেয়ে 'ধর্ম' বা জীবনবোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মানুষ হওয়ার শুদ্ধ বোধ, নৈতিকতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মনুষ্যত্বের অনুশীলনই সনাতন সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।
ভারত কোনোদিন বিশ্বজয়ের জন্য অস্ত্র হাতে নেয়নি, কাউকে বাধ্য করেনি বা ঘুষ দেয়নি। বরং যোগ, আধ্যাত্মিকতা এবং উদার জীবনদর্শন দিয়ে মানুষের মন জয় করেছে। স্থানীয় ইতালিয়ানরা এই জীবনবোধ ও আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই সনাতন ধর্ম গ্রহণ করছেন। ভয় বা প্রলোভন নয়, বরং শুদ্ধ জীবনবোধের অমোঘ আকর্ষণেই ভারতীয় সংস্কৃতি আজ ইতালির মাটিতে শিকড় গাড়ছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।