
হিন্দু যুবককে প্রেমের ফাঁদে ডেকে নৃশংস হত্যা: নরসিংদীর পলাশে স্বামী-স্ত্রীর ভয়ংকর পরিকল্পনার পর্দাফাঁস
HindusNews ডেস্ক :
নরসিংদীর পলাশে পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় যুবককে, এরপর দুই দিন খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে রাতে পুকুরপাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতের নাম নয়ন চন্দ্র মজুমদার (২৮)। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উত্তর মগধরা গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে নয়ন পরিবারসহ নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ঘাগড়া গ্রামের একটি সেলুনে কাজ করতেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ফারজানা আক্তার মিথিলা (২৪) দক্ষিণ মিয়াপাড়া এলাকার মৃত সোহেল মিয়ার মেয়ে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ফারজানা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
জবানবন্দিতে ফারজানা জানান, নয়নের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও দুজনের যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় প্রায়ই তার স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ হতো। একপর্যায়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্বামী ফয়সাল–এর সঙ্গে মিলে নয়নকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার দিন ৯ ডিসেম্বর রাতে ফারজানা কৌশলে নয়নকে ফোন করে বলেন, “স্বামী বাড়িতে নেই।” সেই বিশ্বাসে নয়ন তার বাসায় গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রান্নাঘরের রুটি তৈরির বেলুন দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।
হত্যার পর তারা নয়নের হাত-পা বেঁধে কাঁথায় মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খাটের নিচে দুই দিন লাশ লুকিয়ে রাখে। পরে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে একটি অটোরিকশায় করে বস্তাবন্দী লাশটি পলাশ উপজেলার জিনারদীর কাটাবের এলাকার পুকুরপাড়ে ফেলে দেয়।
পরদিন শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ পুকুরপাড় থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মা ঝর্ণা রানী মজুমদার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফারজানাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, “ফারজানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বামী ফয়সাল বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।