
বৈষ্ণবদের মধ্যে শিবই শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব — শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যা
দুরন্ত কুমার সাহা, ধর্মতত্ব ডেক্স :
সনাতন ধর্মে একটি অতি প্রসিদ্ধ ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি আছে—
“বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভুঃ”
অর্থাৎ, বৈষ্ণবদের মধ্যে যেমন ভক্ত আছেন, তাঁদের মধ্যে শিব (শম্ভু)-ই শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব।
এই উক্তি শুধু ভক্তিমূলক কথা নয়, বরং শাস্ত্রসমর্থিত সত্য। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে এই শ্লোকের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভগবান বিষ্ণুর প্রতি শিবের ভক্তি সর্বোচ্চ স্তরের। শিব সর্বদা ধ্যানে নিমগ্ন থাকেন শ্রীনারায়ণের লীলায়, নাম ও গুণে।
মহাদেব নিজে পরমেশ্বর হয়েও নিজেকে ভক্তরূপে প্রকাশ করেন—এটাই তাঁর মহিমা। কৈলাসে ধ্যানে বসে তিনি উচ্চারণ করেন “নারায়ণ, নারায়ণ” নাম। তাঁর হৃদয়ে সর্বদা বিরাজ করেন শ্রীহরি। তাই শিব কেবল বিষ্ণুর ভক্ত নন, তিনি ভক্তির আদর্শ।
অন্যদিকে, শ্রীবিষ্ণুও শিবকে বিশেষ সম্মান করেন। বহু পুরাণে দেখা যায়—ভগবান বিষ্ণু শিবের স্তব করেন, শিবলিঙ্গ পূজা করেন এবং রুদ্রতত্ত্বকে স্বীকার করেন। এতে বোঝা যায়, শিব ও বিষ্ণুর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; তাঁরা একই পরমতত্ত্বের দুই প্রকাশ।
এই কারণেই বৈষ্ণব দর্শনে শিবকে বলা হয় “আদিগুরু বৈষ্ণব”। তাঁর কাছ থেকেই ভক্তি, বৈরাগ্য ও নামস্মরণের শিক্ষা আসে। শিব শিখিয়েছেন—পরমেশ্বর হওয়ার চেয়েও ভক্ত হওয়া মহত্তর।