
জেলাভিত্তিক সংগঠন মজবুতে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার শীর্ষ বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
হিন্দুত্ব ও জাতীয়তাবাদকে সংগঠিত রূপ দিতে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার শীর্ষ প্রতিনিধি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ বিভিন্ন জেলা ও শাখা থেকে আগত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়,বৈঠকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপথ, সাংগঠনিক রূপরেখা ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার কেন্দ্রীয় সভাপতি আকাশ সাধু। তিনি উপস্থিত কার্যকর্তা ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংস্কৃতিক চেতনার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। আকাশ সাধু বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হলে আগে নাগরিক চরিত্র গঠনের প্রয়োজন। সেই চরিত্র গঠনের আদর্শ আমরা শ্রীরামের জীবনে পাই।” তিনি আদর্শ, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি সুসংহত ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে চলমান সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সভাপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জানান, সংগঠনের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শুধু সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে সদস্যদের সক্রিয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এই প্রেক্ষিতে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও মজবুত ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
সভায় প্রতিটি জেলার সামাজিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পৃথক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভাপতি আকাশ সাধু জেলা ধরে ধরে সদস্যদের ভূমিকা, দায়িত্ব বণ্টন এবং স্থানীয় স্তরে সমাজজাগরণমূলক কর্মসূচি কীভাবে কার্যকরভাবে রূপায়িত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও বৈঠকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কার্যকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতে, আদর্শ ও শৃঙ্খলার সমন্বয় ছাড়া কোনও সংগঠন দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হতে পারে না। তাই প্রত্যেক কর্মীর মধ্যে দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সমগ্র বৈঠকের মাধ্যমে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন।
তাঁরা জানান, এই ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায় এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়। বৈঠক শেষে সমাজজাগরণ ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃত্ব।