
ভারতে বিভিন্ন সেবাকার্যে ১৬৭০.৭৯ কোটি টাকা ব্যয় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মানবসেবা ও সমাজকল্যাণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ২২৪টি শাখা কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কল্যাণমূলক নানা সেবাকার্যে মোট ১৬৭০.৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে এই ঐতিহ্যবাহী সঙ্ঘ।
রবিবার পশ্চিমবঙ্গের বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশনের ১১৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মিশনের পরিচালন সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ। প্রতিবেদনে সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে মিশনের সামগ্রিক কার্যক্রম, ব্যয় ও সেবার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মিশনের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ ছিল শিক্ষা খাতে। এই খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৭৪৩.১৭ কোটি টাকা, যার মাধ্যমে ২.৯৩ লক্ষ শিক্ষার্থী ও উপভোক্তা প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির সাফল্য এবং প্রাপ্ত বিভিন্ন সম্মানও কার্যবিবরণীতে তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, চিকিৎসা সেবায় উপকৃত মানুষের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। মিশনের হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয়, মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট ও স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে ৮৪.২৫ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এই খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৬০০.৫৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়াও সাধারণ কল্যাণমূলক কাজ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, গ্রামীণ ও আদিবাসী কল্যাণ, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রচার, বিভিন্ন সামাজিক সেবাকাজ এবং সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থ প্রকাশনায় উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সংগঠনের সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অসমের হাফলং ও কুরালডাঙা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের নতুন শাখা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কেরল ও মধ্যপ্রদেশে রামকৃষ্ণ মঠের নতুন শাখা কেন্দ্র চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও মিশনের কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে—এর অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-তে একটি নতুন শাখা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন মানবসেবাকেই ঈশ্বরসেবার রূপ হিসেবে গ্রহণ করে চলেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে এই ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।