
তরুণী ও ডিভোর্সিদের টার্গেট করে টাকা ও সোনা লুট।
নিউজ ডেস্ক:
মুসলিম নাম পরিবর্তন করে হিন্দু নাম দিয়ে তরুণী ও ডিভোর্সিদের টার্গেট করে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে টাকা ও সোনা লুট করেছে দুই মুসলিম যুবক।
অভিযুক্ত দুই মুসলিম যুবকের নাম শেখ সাহিদ আফ্রিদি ও জামির আব্বাস।
ম্যাট্রিমনি অ্যাপে শেখ সাহিদ আফ্রিদি ও জামির আব্বাসের মন ভোলানো মিষ্টি কথায় কুপোকাত সুন্দরী তরুণী থেকে বিবাহবিচ্ছিন্না বা ডিভোর্সিরা। নাম দেখে তখন কে আর গুণবিচার করে? আর করেনি বলেই কেউ খুইয়েছেন সোনার হার, নেকলেস। কেউ বা খুইয়েছেন জীবনের সঞ্চিত অর্থ। এভাবেই সাগর থেকে কাশ্মীর—কার্যত লুঠতরাজ চালিয়েছে শেখ সাহিদ আফ্রিদি, জামির আব্বাসরা। ধুরন্ধর সাহিদদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে যে কত মহিলা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন, তা জানতে পেরে চক্ষুচড়কগাছ তদন্তকারীদের!
পুলিশ জানতে পেরেছে, ম্যাট্রিমনি অ্যাপে জামিররা নাম ভাঁড়িয়ে মুহূর্তেই পটিয়ে ফেলত জীবন-যন্ত্রণায় ভুক্তভোগী মহিলাদের। কোনও তরুণীর হয়তো বিয়ের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। নানা কারণে হয়তো সাতপাকে বাঁধা পড়তে পারেননি। কারও স্বামীর সঙ্গে গোলমাল। কেউ বা ডিভোর্সি। তাঁদের টার্গেট করে যেখানে যেমন খুশি নাম ব্যবহার করত জামিররা। কোথাও তারা অনুপম। কোথাও আবার রাজ। লক্ষ্য একটাই প্রেমের ফাঁদে ফেলা। তারপর একে একে হাতিয়ে নেওয়া সোনার অলঙ্কার ও লক্ষ লক্ষ টাকা।
তদন্তে উঠে আসছে, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির দুই মহিলার থেকে জামিররা ৫০ ভরি সোনার অলঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে। দু’জনের কাছে থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকাও নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়েছে।
কীভাবে হল পর্দা ফাঁস? গত ১৮ অক্টোবর বর্ধমান সাইবার থানায় এক মহিলা প্রতরণার অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগে জানান, জুন মাসে ম্যাট্রিমনি অ্যাপে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় অনুপম রায় নামে এক যুবকের। কিছুদিন কথা বলার পর প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’জনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছুদিন পর থেকেই ‘অনুপম’ তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন অছিলায় টাকা চাইতে থাকে। বিশ্বাসের উপর ভর করে যুবককে ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন। ১৮ ভরি সোনাও ‘অনুপম’-এর হাতে তিনি তুলে দেন। কখনও সে বলে ব্যবসায় লোকসান হয়ে গিয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য টাকার প্রয়োজন। আবার কখনও সে নতুন ব্যবসা খোলার নামে টাকা চাইত।
এখানেই শেষ নয়, অনুপম পরিচয় দেওয়া ওই প্রতারক রাজ পরিচয় দেওয়া এক যুবককে তাঁর কাছে পাঠাত। তারা দু’জনে ভাল বন্ধু বলে সে জানায়। ওই মহিলা সেটাই বিশ্বাস করে নেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপম রায় পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের আসল নাম জামির আব্বাস। সে যাকে পাঠিয়েছিল তার নাম শেখ শাহিদ আফ্রিদি। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ক’দিন আগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছে থেকে ১২ ভরি সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করে ওই মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, ‘অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। অল্প দিনের পরিচয়ে কাউকে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। সাইবার ক্রাইম নিয়ে লাগাতার সচেতন করা হচ্ছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই প্রতারকরা ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ত্রিপুরা, অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যের যুবতীদের সঙ্গে প্রতরণা করেছে। সোনা বা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। আবার অন্য নামে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতরণা শুরু করে। নিজেদের বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েই যুবতীদের সঙ্গে মিষ্টি কথা বলে ভাব জমায়। কিন্তু জামির কিংবা সাহিদ কখনই সামনে আসত না। তারা লোক পাঠিয়ে মহিলাদের থেকে সোনার অলঙ্কার, টাকা নিয়ে যেত।