
শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দিরে ভগবদ গীতা যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
জয়ন্ত চন্দ্র দেবশর্মা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
মানব উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে ও ভক্তবৃন্দের পরিচালনায় শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভগবদ গীতা যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি মাসের ন্যায় ১লা পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, রোজ বুধবার এই ধর্মীয় আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে ভগবদ গীতার দশম অধ্যায় ‘বিভূতি যোগ’ পাঠ করা হয়। গীতার এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বরিক মহিমা ও সর্বব্যাপী বিভূতির ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, যা মানবজীবনে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মউন্নয়নের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ভক্ত পাঠে অংশগ্রহণ করেন।
পাঠ্যসূচি অনুযায়ী— শ্রী হিমাংশু রায় (রামচন্দ্রপুর, কাহারোল) ১–৩ তম শ্লোক, অনিকা রাণী রায় (রামচন্দ্রপুর, কাহারোল) ৪–৬ তম শ্লোক, বিকাশ চন্দ্র রায় (রামচন্দ্রপুর, কাহারোল) ৭–৯ তম শ্লোক, পার্বতী রাণী রায় (সাইনগর, কাহারোল) ১০–১২ তম শ্লোক, লাভলী রাণী রায় (কুমারপুর, বীরগঞ্জ) ১৩–১৫ তম শ্লোক, গোপেশ চন্দ্র রায় (রামপুর, কাহারোল) ১৬–১৮ তম শ্লোক, রণজিৎ কুমার রায় (পাকেরহাট, খানসামা) ১৯–২১ তম শ্লোক, মালতী রাণী রায় (গোন্দলগ্রাম, চিরিরবন্দর) ২২–২৩ তম শ্লোক, সুবর্ণা দাসী (ধুলোট, বীরগঞ্জ) ২৪–২৫ তম শ্লোক, তনুশ্রী রায় (নয়াবাদ, কাহারোল) ২৬–২৮ তম শ্লোক, কেশব চন্দ্র মহান্ত (সুইহারী, দিনাজপুর) ২৯–৩১ তম শ্লোক, মাধবী রাণী রায় (হেলেঞ্চাকুড়ী, কাহারোল) ৩২–৩৩ তম শ্লোক, স্বর্ণা রাণী রায় (বিষ্ণুপুর, বিরল) ৩৪–৩৫ তম শ্লোক, মিনতি রাণী রায় (বিষ্ণুপুর, বিরল) ৩৬–৩৭ তম শ্লোক, শ্যামলী রাণী রায় (পার্বতীপুর, পার্বতীপুর) ৩৮–৩৯ তম শ্লোক, রিতা রাণী রায় (দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়) ৪০–৪১ তম শ্লোক এবং সর্বশেষে সুজন কুমার রায় (নীলফামারী, নীলফামারী) ৪২ তম শ্লোক পাঠ করেন।
দশম অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন শ্রীমতি গীতা রাণী রায় (চিরিরবন্দর), অলোকা রাণী রায় (নয়াবাদ, কাহারোল), উত্তম কুমার মহান্ত (দলুয়া, বীরগঞ্জ), নরেশ চন্দ্র রায় (খানসামা), চন্দনা রাণী রায় (বিষ্ণুপুর, বিরল), জগবন্ধু রায় (বাবুরবাজার, নীলফামারী), জগদীশ চন্দ্র রায় (নীলফামারী), দ্বীনবন্ধু রায় (গোন্দলগ্রাম, চিরিরবন্দর), শ্রী রণজিৎ কুমার সিংহ (রাজ দেবোত্তর এস্টেট—এজেন্ট, দিনাজপুর), কান্তেশ্বর রায় (ধুলোট, বীরগঞ্জ) ও বিপুলানন্দ মহন্ত (সুইহারী)। তাঁদের আলোচনায় গীতার দর্শন ও তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ রায় (কাহারোল) এবং উপস্থাপনায় ছিলেন শ্রী দিনোবন্ধু রায় (ভূষিবন্দর, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর)।
অনুষ্ঠানে মানব উন্নয়ন সংঘের সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন। ভগবদ গীতার মহিমা ও মানবজীবনে এর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে ধর্মীয় পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও ভাবগম্ভীরভাবে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, মানব উন্নয়ন সংঘের মূল মন্ত্র— “সমাজ বাঁচান, ধর্ম বাঁচান—নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচতে দিন।” এই আদর্শকে সামনে রেখে সংগঠনটি ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আয়োজিত ভগবদ গীতা যজ্ঞানুষ্ঠানও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।